চ্যালেঞ্জিং পেশা মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ - ইনফোক্রাঞ্চ - ছড়িয়ে পড়ুক নতুন কিছু জানার আগ্রহ

সর্বশেষ পোস্ট

ইনফোক্রাঞ্চ - ছড়িয়ে পড়ুক নতুন কিছু জানার আগ্রহ

ছড়িয়ে পড়ুক নতুন কিছু জানার আগ্রহ

test banner

Post Top Ad

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Wednesday, February 28, 2018

চ্যালেঞ্জিং পেশা মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ

মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। এই পেশায় ভােলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ অনেক। দক্ষতা দিয়ে আপনিও পৌঁছাতে পারেন প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে উঁচু স্তরে।


মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভের কাজের ধরন


  • রিপ্রেজেন্টেটিভরা চিকিৎসকদের কাছে পণ্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। 
  • প্রতিষ্ঠানগুলো কী ওষুধ বানাচ্ছে, এর গুনাবলি কী, কোন রোগের নিরাময়ক প্রভৃতি তথ্য জানানো ও ওষুধের কার্যকারিতা তুলে ধরাই তাঁদের কাজ।
  • প্রায় সময় কোম্পানিগুলো নতুন ওষুধ বাজারে নিয়ে আসে। আগেরটির চেয়ে বাজারে আসা নতুন ওষুধটি মানের দিক দিয়ে কেন ভালো, এটাও চিকিৎসকদের বোঝাতে হয়।
  • রিপ্রেজেন্টেটিভের আরও একটি কাজ হলো ওষুধের দোকান থেকে অর্ডার সংগ্রহ করা।


পেশা হিসেবে কেমন?

  • পেশা হিসেবে খুব ভালো। তবে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। 
  • নিজেকে প্রমাণের জন্য এই কাজটি উপযুক্ত। 
  • এখানে নিজের যোগ্যতা দিয়েই উন্নতি করতে হয়। 
  • কঠোর পরিশ্রম, বুদ্ধি থাকলে এই পেশায় পেছনে পড়ে থাকার কোনো উপায় নেই। আ
  • পনার কাজই আপনাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। 
  • অল্প সময়ে আপনি নিজের কাজের ফল পাবেন।

প্রতিনিধিদের কাজ

যোগদানের পরই সরাসরি কাজে পাঠানো হয় না। প্রথমে দুই থেকে তিন মাস মেয়াদি একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিতে হবে। নিয়োগকর্তা কোম্পানি নিজেরাই এ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে। এখান থেকে প্রোডাক্ট সম্পর্কে ধারণা পেয়েই পরবর্তীতে কাজ করতে হয়। মেডিকেল প্রতিনিধিদের কাজ হলো প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। প্রত্যেক প্রতিনিধির জন্য এলাকা নির্ধারিত থাকে। নির্দিষ্ট এলাকার ডাক্তারদের সাথে সাক্ষাৎ করাই তার কাজ। ডাক্তারদের চেম্বারে উপস্থিত হয়ে একজন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভের কাজ কি হবে তা আগেই অফিস থেকে ধারণা দেয়া হয়। সে অনুযায়ী কোম্পানির ওষুধের গুণাগুণ ডাক্তারদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন তারা। অধিকাংশ মেডিকেল প্রতিনিধির কাজ প্রত্যেক সকালে হাসপাতালে উপস্থিত হওয়া। বিকালে ডক্টরস পয়েন্ট ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তারদের চেম্বারে উপস্থিত হওয়া। সারাদিনের কাজ পরের দিন সকালে অফিসের সংশ্লিষ্ট বিভাগে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দেয়া।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

বিজ্ঞান বিষয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য এই পেশা উপযুক্ত। তবে অন্য বিষয় পড়ুয়া তরুণেরাও বর্তমানে এই পেশায় আসতে পারবেন। উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতকে বায়োলজিক্যাল বিষয়গুলো থাকলে তাঁদের পক্ষে সাফল্য পাওয়া তুলনামূলক সহজ। বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকেও নিয়োগ দিচ্ছে। অভিজ্ঞ লোকের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা কিছুটা শিথিলযোগ্য।


নিয়োগ প্রক্রিয়া

অন্য চাকরির মতো এই পেশায় নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবাদপত্র বা অনলাইনের জব পোর্টালগুলোয় নিয়োগের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও নিয়োগের তথ্য দেয়। এ ছাড়া এই পেশায় বর্তমানে কর্মরতদের কাছেও নিয়োগের তথ্য জানা যায়। আবেদন করার পর প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন মেয়াদে এদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। এর পরই চূড়ান্ত নিয়োগ হয়।


বেতন ও সুযোগ-সুবিধা

  • এই পেশার একটি বিশেষ দিক হলো কাজের যোগ্যতার ওপর আয় নির্ভর করে। যিনি বেশি যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারবেন, তিনি তত বেশি বেতন পান। 
  • রিপ্রেজেন্টেটিভদের প্রাথমিক বেতন ১০ থেকে ১৮ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। এ ছাড়া মাঠ পর্যায়ে কাজের জন্য আলাদা খরচ দেওয়া হয়। 
  • লক্ষ্য পূরণের ওপর তাঁরা বিশেষ সুবিধা পান। এ ছাড়া তাঁদের যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেল দেওয়া হয়। 
  • বর্তমানে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানিতে রিপ্রেজেন্টেটিভদের বছরে দুই থেকে পাঁচটি পর্যন্ত বোনাস দেওয়া হয়। 
  • এই খাতে রিপ্রেজেন্টেটিভ থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হওয়ার উদাহরণ আছে।
  •  প্রাথমিকভাবে নিয়োগ পাওয়ার পর রিপ্রেজেন্টেটিভ থেকে এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে পদোন্নতি পাওয়া যায়। 
  • এরপর ধাপে ধাপে এরিয়া ম্যানেজার, সিনিয়র এরিয়া ম্যানেজার, সেলস ম্যানেজার, সিনিয়র সেলস ম্যানেজার থেকে হেড অব সেলস ম্যানেজার হওয়ার সুযোগ আছে।

কত লোক নিয়োগ হয়

রিপ্রেজেন্টেটিভ পেশায় কত লোক নিয়োগ হয়, এর কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। তবে সারা বছর এই পেশায় লোক নিয়োগ করা হয়। তবে প্রতিবছর চার থেকে পাঁচ হাজার লোক যুক্ত হচ্ছে। কখনও কখনও এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ ছাড়া অনেকেই ভালো করার কারণে ওপরের পদে চলে যাওয়ার সুযোগ পান।


মেয়েদের সম্ভাবনা

বর্তমানে এই পেশায় যুক্ত হচ্ছেন মেয়েরা। মেয়েদের জন্য এই পেশা তুলনামূলক কিছুটা কঠিন হলেও এখন অনেকে এই পেশায় আসছেন। বিশেষ করে নারী চিকিৎসকদের কাছে মেয়েরা গেলে তাঁরা ভালোভাবে গ্রহণ করেন। আর মেয়েরাও এতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad

Responsive Ads Here